প্রকাশ :: ... | ... | ...

চকরিয়া-মাতামুহুরী বন্যায় সড়কে ক্ষতি ৮৭ কোটি টাকা


সংযুক্ত ছবি

চকরিয়া-মাতামুহুরী বন্যায় সড়কে ক্ষতি ৮৭ কোটি টাকা | ছবি: NewsBangla.Net

চকরিয়া-মাতামুহুরী বন্যায় সড়কে ক্ষতি ৮৭ কোটি টাকা ।।মোহাম্মদ উল্লাহ।। টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভাঙনের কবলে অনেক সড়কে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সমগ্র কক্সবাজার জেলায় সড়ক ও অবকাঠামো খাতে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে,তার মধ্যে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলাতেই সড়কের ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। দুই উপজেলার এলজিইডি ও সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ৮৭কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বন্যার কবলে পড়ে ভাঙাচোরা সড়কগুলোতে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষজন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, দুই উপজেলায় এলজিইডির ২৬ টি সড়কের তিন শত চল্লিশ কিলোমিটার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ৮৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্যমতে, দুই উপজেলার ৭টি সড়ক কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরীর বিভিন্ন অংশে বন্যার পানি নামতে বিলম্ব হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে স্লুইসগেট গুলোর অব্যবস্থাপনা। এই অঞ্চলের মোট ১০৩ টি স্লুইসগেটের মধ্যে ১০ টির মতো অকেজো ছিল। বাকি ৯৩ টি সচল গেট। স্থানীয়সূত্রে জানা যায়,এলাকায়র প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অধিকাংশ স্লুইসগেটের কপাট আটকে দিয়ে মাছ ধরার জাল বসিয়েছিলেন। এর ফলে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়,যা সড়কগুলোর আরও বেশি ক্ষতিসাধন করেছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে স্লুইসগেটগুলো উন্মুক্ত করে। সড়ক যোগাযোগ লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ায় দুই উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ চরম ভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন। দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা আসিফ নেওয়াজ বলেন,বন্যায় ইউনিয়নের প্রায় সবকয়টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মানুষজন বাড়ি থেকে বের হয়ে কোথাও যাবে,সেই অবস্থাও নেই। চকরিয়া উপজেলা বরইতলী ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মঈনুল আমিন বলেন,বন্যায় শান্তি বাজার থেকে বুড়ির দোকান সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে আমাদের। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেন "দৈনিক মানবজমিন" কে বলেন, বন্যার ভয়াবহতা সব জায়গায় আঘাত করলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিচু এলাকাগুলো। বন্যায় দুই উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন তিন শত চল্লিশ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেছি। দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে সওজ এর চকরিয়া ও মাতামুহুরী অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জিলানী দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আনুমানিক ৩ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে।