| ছবি: Newsbangla.net
অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার তা স্বাক্ষর হওয়ার কথা সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমনটা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘কমপ্লিট’। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইতির ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘ডিফিকাল্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। এ খবরে বিশ্বজুড়ে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা ও এনডিটিভি। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান লেবানন সহ সব ফ্রন্টে সামরিক কর্মকাণ্ডের ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী’ অবসান ঘটাতে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের ইঙ্গিত মিলেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রথম ঘোষণা করা এই শান্তি চুক্তির বিষয়টি পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়েই নিশ্চিত করেছে।এই চুক্তি যুদ্ধের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর সমাধানে আলোচনার সুযোগ এনে দিয়েছে। আলোচনায় জড়িত পক্ষগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এই চুক্তি করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। তবে হরমুজ প্রণালি হয়তো সঙ্গে সঙ্গেই পুরোপুরি চালু হবে না। মাইন অপসারণ, অবকাঠামো মেরামত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এরপরই যুদ্ধপূর্ব সময়ের মতো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারবে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহণ করা হতো।সমঝোতা স্মারকটিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় দেয়ার বিষয়েও আলোচনা করবে। তবে এসব ছাড় তেহরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে।